সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে নার্সদের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তবে এবার তুচ্ছ কারণে গাইনি ওয়ার্ডের নার্স তানজিলা আক্তারের চরম ঔদ্ধত্য ও অশালীন আচরণের ঘটনা সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এক নারীর সঙ্গে আসা এক যুবক তাকে 'আন্টি' বলে সম্বোধন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে রণংদেহী মূর্তি ধারণ করেন ওই নার্স।জানা গেছে, অভিযুক্ত নার্স তানজিলা আক্তারের বাড়ি বরগুনা জেলায়। গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এক নারীর সঙ্গে থাকা যুবক তাকে বিনয়ের সঙ্গে 'আন্টি' বলে সম্বোধন করেন। একজন সরকারি সেবিকা হিসেবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা গেছে, তিনি অত্যন্ত উগ্র ভঙ্গিতে হাতে কিছু একটা নিয়ে ওই যুবকের দিকে তেড়ে আসছেন। সাধারণ শিষ্টাচার ভুলে তিনি যুবক ও ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে উচ্চস্বরে তর্কবিতর্ক এবং অশালীন আচরণ শুরু করেন।তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে নার্স তানজিলা আক্তার দম্ভোক্তি প্রকাশ করে উপস্থিত সবার সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে কী করতে পারেন করেন, আমি দেখি!" একজন দায়িত্বশীল নার্সের মুখে এমন মারমুখী ভাষা ও ঔদ্ধত্য দেখে উপস্থিত অন্যান্য রোগী ও তাদের স্বজনেরা হতভম্ব হয়ে পড়েন। হাসপাতালের মতো একটি স্পর্শকাতর জায়গায় এ ধরনের আচরণে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেখানে একটু সহমর্মিতা আশা করেন, সেখানে নার্সের এমন রূঢ় ও উদ্ধত ব্যবহার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল এই নার্সের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
১ সপ্তাহ আগে
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় টাকা ও ক্ষমতার দাপটে এক কুয়েত প্রবাসীর জমি দখলের চেষ্টা এবং তাকে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চরভদ্রাসন উপজেলার খান মামুদের ডাঙ্গী গ্রামের নিজ বসতবাড়ির আঙিনায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী কুয়েত প্রবাসী রাজিব মাহমুদ (৩৭)।সংবাদ সম্মেলনে রাজিব মাহমুদ জানান, একই গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিবেশী মেহেদী হাসান, ইমরান মাহমুদ ও সজিব গংরা তার পৈতৃক ও ক্রয়কৃত মোট ১৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন: "প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে আমি ১০.৩৯ শতাংশ জমি ক্রয় করি। এর সঙ্গে আমার মা রেজিয়া বেগমের পৈত্রিক ওয়ারিশি জমি মিলে মোট ১৮ শতাংশ জমিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। জমির নামপত্তন (মিউটেশন খতিয়ান নং-২০০৫-১০০০০৭) ও নিয়মিত খাজনা পরিশোধ থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষরা ভুয়া দলিলের অজুহাতে এই জমি দখলের চেষ্টা করছে।"ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তারা দুই ভাই প্রবাসে থাকায় এবং বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা একা থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষরা গত ২৯ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে তার জমিতে তান্ডব চালায়। তারা জমির সীমানা প্রাচীরের তিনটি পিলার ভেঙে ফেলে এবং মালিকানা স্বত্বের সাইনবোর্ড উপড়ে নিয়ে যায়। বর্তমানে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে জমিতে মহড়া দেওয়া হচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে রাজিবকে অনবরত প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়েস মেসেজ পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।স্থানীয় পর্যায়ে ৭-৮ বার এবং চরভদ্রাসন থানায় দুইবার আপোষ মীমাংসার জন্য বৈঠকের দিন ধার্য করা হলেও প্রভাবশালী মেহেদী হাসান গংরা কখনও উপস্থিত হয়নি। সর্বশেষ পুলিশ আগামী ৩ এপ্রিল বৈঠকের দিন ধার্য করলে, প্রতিপক্ষ মেহেদী হাসান চতুরতার আশ্রয় নিয়ে গত ১ এপ্রিল ফরিদপুর কোর্টে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেন। ফলে বর্তমানে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, "যেহেতু মেহেদী হাসান কোর্টে ১৪৪ ধারার আবেদন করেছেন, তাই পুলিশ এখন আর সরাসরি আপোষের জন্য ডাকতে পারে না। বিষয়টি এখন আদালতের অধীনে।"অন্যদিকে অভিযুক্ত মেহেদী হাসান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি গঞ্জর আলী বেপারী গংদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন এবং সেই সূত্রেই মালিকানা দাবি করছেন। তার দলিল পরে হলেও দাতা সঠিক বলে তিনি দাবি করেন।বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রবাসী রাজিব মাহমুদ। নিজ দেশে এসে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রভাবশালীদের হাত থেকে পৈত্রিক ভিটা রক্ষায় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
২ সপ্তাহ আগে
বছর তিনেক আগে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লা হত্যার ঘটনায় তার দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।২২ ফেব্রুয়ারি রোববার এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ।দণ্ডিতরা হলেন—ইকরামের বন্ধু শান্ত মিয়া ও শান্তর বন্ধু আবু সিদ্দিক।আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, “হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডের এবং লাশ গুমের দায়ে দুইজনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।”দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সিদ্দিককে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইট-বালুর ব্যবসায় লগ্নির অংশ হিসেবে বন্ধু শান্তকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলেন ইকরাম। বিনিময়ে প্রতি মাসে তাকে হাত খরচার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘটনার ছয় মাস আগে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে কোনো হাত খরচা পাননি ইকরাম। উল্টো নেশাগ্রস্ত হয়ে ব্যবসার পুঁজি শেষ করে ফেলছিলেন শান্ত।তার মাদকাসক্ত হওয়ার তথ্য পরিবারকে জানানোয় এবং টাকা চাওয়ায় ইকরামের ওপর ক্ষুব্ধ হন শান্ত। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে শান্ত তার আরেক বন্ধু আবু সিদ্দিককে সঙ্গে নিয়ে ইকরামকে হত্যার পরিকল্পনা করে।এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৪ মে ইকরাম বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে ৫ মে খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর ৬ মে খিলক্ষেতের পাতিরা বালুর মাঠ এলাকা থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।একমাত্র ছেলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা কবির হোসেন মোল্লা। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৬ নভেম্বর খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক এনামুল হক খন্দকার দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এরপর রোববার রায় দেওয়া হলো।
১ মাস আগে
চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে মোহাম্মদপুরের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তারা আদাবর থানা ঘেরাও করেছে। ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার রাত ১টায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রতিকার চেয়ে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা।জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা রাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেন।রাত ১টার দিকেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় নানা স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের।মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরিতে আজ বেতন দিচ্ছিল, সে সময় ১০-১২ সদস্যের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে ঐ ফ্যাক্টরিতে হামলা চালায় মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে। ঐ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি যখন অন্নান্য ফ্যাক্টরিতেও ছড়িয়ে পরে তখন শ্রমিকরা ছিনতাইকারীদের লিডার রাসেলের বাড়ি ঘেরাও করেন। রাসেলকে না পেয়ে শ্রমিকরা তার বাবাকে অবরোধ করে।কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাসেলের বাবা ভয়ে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাকে হেফাজতে থানায় নিয়ে আসি।তখনি উত্তেজিত জনতা থানার সামনে এসে জড় হয়।তিনি আরও বলেন, আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির মালিক বাদি হয়ে একটা মামলা করেছে, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
১ মাস আগে