ঈদ বাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬ বিকাল ০৩:১২:১৩
ঈদকে সামনে রেখে ডিম-মুরগি ও নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাজারে বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল ও মসুর ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রকাশিত দৈনিক পণ্যমূল্যের তালিকা পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম মানভেদে ৩৬ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের দিন এই দাম ছিল ৩২ থেকে ৪০ টাকা।
এছাড়া বাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৩০ টাকা, যা এক দিন আগেও ছিল ২২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং এক মাস আগে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
টিসিবি সূত্রে জানা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। বোতলজাত দুই লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ থেকে ৩৯৫ টাকায়। পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকায় উঠেছে।
এছাড়া মসলার বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬০০ টাকা। লবঙ্গের দাম বেড়ে কেজিতে ১৪০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ছিল প্রায় ১২০০ টাকা।
অন্যদিকে, খামার পর্যায়ে ডিমের উৎপাদন খরচ প্রায় সাড়ে ৯ টাকা হলেও প্রান্তিক খামারিরা লোকসান দিয়ে প্রতিটি ডিম প্রায় সাড়ে ৬ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ আড়ত ও মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে সেই ডিম খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে প্রায় ১১ টাকায়।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব বাড়ার কারণে একদিকে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে ভোক্তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন লোকসান চলতে থাকায় অনেক ছোট খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এলাকার প্রান্তিক খামারি খন্দকার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হলেও তিনি ডিম বিক্রি করছেন প্রায় সাড়ে ৬ টাকায়। চার মাস ধরে লোকসান হওয়ায় এখন খামার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই এলাকার খামারি আব্দুল মালেক জানান, তার খামারে প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হচ্ছে। মাসে এই লোকসান ৪ লাখ টাকারও বেশি। বিদ্যুৎ বিলও নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছেন না তিনি।
এদিকে পোলট্রি খাতের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক খামারিদের পরিশ্রমেই দেশের মানুষ তুলনামূলক কম দামে ডিম ও মুরগি পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছেন।
অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পোলট্রি খাত গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো না গেলে ছোট খামারিরা দ্রুত ঝরে পড়বে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগের তুলনায় দেশে পোলট্রি খামারের সংখ্যা কমেছে। তবে এই খাত নিয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সম্প্রতি অনুমোদিত পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন হলে খাতটি কিছুটা সুরক্ষা পাবে।